উদ্দীপকের 'P' অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। এটি একটি মিশ্র গ্রন্থি, যা অন্তঃক্ষরা (endocrine) ও বহিঃক্ষরা (exocrine) উভয় গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
i. কঠিন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে: এটি অগ্ন্যাশয়ের কাজ নয়। কঠিন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সাথে প্রধানত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন (যেমন, অ্যাড্রেনালিন, কর্টিসল) এবং স্নায়ুতন্ত্র জড়িত। তাই এই বিবৃতিটি সঠিক নয়।
ii. প্রোটিন, চর্বি ও শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে: অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস (pancreatic juice) নিঃসৃত হয়, যা বিভিন্ন পরিপাক এনজাইম যেমন- ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ ধারণ করে। এই এনজাইমগুলো যথাক্রমে প্রোটিন, শর্করা ও চর্বি পরিপাকে সাহায্য করে। তাই এই বিবৃতিটি সঠিক।
iii. রাতে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: অগ্ন্যাশয়ের ল্যাঙ্গারহ্যান্সের আইলেটস (Islets of Langerhans) থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে বা উপবাসের সময় যখন খাদ্য গ্রহণ হয় না, তখন এই হরমোনগুলো রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই বিবৃতিটি সঠিক।
উপরোক্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ii ও iii নং বিবৃতি দুটি সঠিক।
জীবমাত্রই খাদ্য গ্রহণ করে, কারণ জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্ন। জীবের পুষ্টির জন্য বিভিন্ন উপাদানের প্রয়োজন হয়। মানবদেহের জন্য খাদ্য, পুষ্টি ও পরিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদের পুষ্টি এ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।
উদ্ভিদের পুষ্টির অতি প্রয়োজনীয় উপাদান বর্ণনা করতে পারব।
উদ্ভিদে পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ বিশ্লেষণ করতে পারব।
প্রাণীর খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস বর্ণনা করতে পারব।
আদর্শ খাদ্য পিরামিড ব্যাখ্যা করতে পারব। খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
পুষ্টির অভাবজনিত রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার বর্ণনা করতে পারব।
কিলোক্যালরি ও কিলোজুল ব্যাখ্যা করতে পারব।
পুষ্টি উপাদানে শক্তির পরিমাণ এবং ক্যালরি ও জুলে এদের রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব।
বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ও বডি মাস রেশিওর (বিএমআর) গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
বিএমআই ও বিএমআরের হিসাব করতে পারব।
বিএমআর এবং ব্যয়িত শক্তির সাথে সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারব।
বয়স ও লিঙ্গভেদে বিএমআই হিসাব করতে পারব।
সুস্থ জীবনযাপনে শরীরচর্চা ও বিশ্রামের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
খাদ্য সংরক্ষণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব। খাদ্যে অতিমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ এবং রঞ্জক ব্যবহারের শারীরিক বিক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে পারব।
পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রধান অংশ ও সহায়তাকারী অঙ্গের গঠন ও কাজ বর্ণনা করতে পারব।
পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রধান অংশের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব। যকৃতের (Liver) কাজ বর্ণনা করতে পারব।
অগ্ন্যাশয়ের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
খাদ্য পরিপাকে উৎসেচকের (Enzyme) ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব।
অস্ত্রের বিভিন্ন সমস্যাজনিত রোগ এবং এর প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
পরিপাকতন্ত্রের রোগের বিষয়ে নিজে সচেতন হব এবং পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করব।
সাত দিনের গৃহীত খাদ্যের একটি তালিকা তৈরি করে এটিকে সুষম খাদ্যের সাথে তুলনা করতে পারব।
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে পুষ্টির অবদান বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।